বিশেষ করে মৌসুমের কারণে বর্তমানে বাজারে নতুন দেশী পেঁয়াজ, রসুন ও আদার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় পণ্যগুলোর দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে।
দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কয়েক মাস ধরেই দেশী পেঁয়াজের দাম নিম্নমুখী। বিশেষ করে গত ডিসেম্বরে নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসার পর থেকেই দাম কমতে শুরু করে। ডিসেম্বরের শুরুতে যে পেঁয়াজ ৭০-১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, মাস শেষে তা নেমে আসে ৪০-৫০ টাকায়। এ কমার ধারা অব্যাহত ছিল জানুয়ারি-এপ্রিল পর্যন্ত। সবশেষ গতকাল পাইকারি বাজারে দেশী পেঁয়াজ মানভেদে মাত্র ১৫-২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে আদা ও রসুনের ক্ষেত্রেও। ফেব্রুয়ারিতে যে রসুন ৫০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, এখন পাইকারিতে তা দাঁড়িয়েছে ৩৫-৬৫ টাকায়। শুধু দেশী নয়, দীর্ঘদিন চড়া দামে বিক্রি হওয়া চীনা রসুনের দামও এখন পড়তির দিকে। রোজার শুরুতে ২৩০ টাকা পর্যন্ত ওঠা আমদানীকৃত এ রসুনের দাম এখন ১২০-১২২ টাকায় নেমে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আমদানীকৃত আদা সরবরাহ বাড়ায় তার প্রভাব পড়েছে দেশী বাজারেও। বর্তমানে দেশী আদা কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা রোজার আগে ছিল ১০০-১২০ টাকা। অন্যদিকে চীনা আদা ৯০-১০০ টাকার মধ্যে পাওয়ায় দেশী আদার দামও এখন নিম্নমুখী।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি সংকট ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় পাম অয়েল, সয়াবিন, চিনি বা গমের মতো আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এসব পণ্যের দাম আরো বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। তবে দেশী পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের ক্ষেত্রে মৌসুমের শেষ সময়ে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমছে।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স সততা বাণিজ্যালয়ের স্বত্বাধিকারী রতন রায় জানান, রবি মৌসুমের শেষ দিকে দেশে উৎপাদিত মসলাজাতীয় তিনটি পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এর মধ্যে আদা, রসুন ও পেঁয়াজের একটি বড় অংশই কৃষকরা বিক্রি করে দেন। ফলে বাজারে সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় তা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। এদিকে দেশীয় পণ্যের দাম কমায় আমদানীকৃত আদা, রসুনের বাজারেও দাম কমতে শুরু করেছে।
তবে ব্যবসায়ীরা মজুদ সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেছেন, মৌসুমে দেশের বাজারে মসলাজাতীয় পণ্যের সরবরাহ বেড়ে দাম কমে গেলেও পর্যাপ্ত মজুদের সুযোগ কম। এ কারণে এখন সবচেয়ে কম দামে পেঁয়াজ, রসুনের মতো পণ্য পাওয়া গেলেও মৌসুম ছাড়া কিংবা উৎসবকালীন দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ সর্বনিম্ন ১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালোমানের পেঁয়াজ পাইকারিতে সর্বোচ্চ বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬ টাকা কেজি দরে। আবার দেশীয় রসুন সর্বনিম্ন ৩৪-৩৫ টাকা কেজি দরে লেনদেন হচ্ছে। দেশের উৎপাদন মৌসুমে মসলাজাতীয় কাঁচাপণ্যের সংরক্ষণ ও মজুদ প্রক্রিয়া উন্নত করা গেলে বছরব্যাপী নিত্যপণ্যগুলোর দাম স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছেন তারা।